Wednesday, July 8, 2026

ঈশ্বর কি অস্তিত্বহীন হতে পারেন?

Could God not exist?

ইদানিং কালে এই প্রশ্ন এক আস্তিক আরেক আস্তিক সম্প্রদায়কে করতে শোনা যাচ্ছে। যেখনে এক আস্তিক নিজের ঈশ্বরে বিশ্বাস যোগ্যতাকে তাঁর প্রতিপক্ষের ওপর আরোপ করতে পারেন। এই প্রশ্ন মূলত নাস্তিকদের।

অস্তিত্ব বলতে আমরা কি বুঝি?

যখন আমরা বলি, “এই বস্তুটির অস্তিত্ব আছে”। তখন আমরা বস্তুটি প্রত্যক্ষ ভাবে দেখতে বা বুঝতে পারি। অস্তি (অস্ + তি) অর্থাৎ বিদ্যমান এর সঙ্গে ত্ব (তদ্ধিত প্রত্যয়) যোগ করা হয়েছে।

যেমন, এই মোবাইল ফোন বা ট্যাবলেট বা কম্পিউটার। আবার এটি কোনো বস্তু না হয়ে কোনো অনুভূতি হতে পারে যেমন, ভয়, প্রেম, পিপাশা ইত্যাদি। অস্তিত্ব বলতে আমরা যা বুঝি সেটা আমাদের থেকে আলাদা একটি বস্তু বা বিষয় হতেই হবে। আমার নিজেদের অস্তিত্বকে বুজতে পরি, আমরা নিজেদেরকে সাক্ষী স্বরূপে বুঝি? ‘আমি’, ‘আমার’, ‘আমাদের’ এর মূলে যে সাক্ষী স্বরুপ আছেন, সেটাই আমার অস্তিত্ব।

আপনি যদি একজন মুসলিম বা ইহুদী ব্যক্তিকে বলেন, ঈশ্বর কি অস্তিত্বহীন হতে পারেন? আর আপনার জবাব যদি হয় হ্যা। তাহলে তারা আপনার ওপর হাঁসাহাঁসি করবে। কারণ ঈশ্বরের অস্তিত্বকে তারা এই জগত থেকে আলাদা একটি অস্তিত্ব মনে করেন। তারা বলেন আল্লাহ বা ইলাহা হলেন রাব্বুল আলামীন— অর্থাৎ সমগ্র জগতের মালিক।

যেমন কোনো বাড়ি তৈরী করতে কাঠ, লোহা সিমেন্ট ইট বা বিভিন্ন সামগ্রী দরকার হয়। শুধু সামগ্রী থাকলেই হয় না। এগুলো নিজে নিজে ঠিক ঠিক জায়গায় বসে গিয়ে একটি বাড়ি তৈরি হতে পারে না। আমাদের এই বিশাল ব্রহ্মান্ড এবং সেই তুলনায় আমাদের এই দেহ যিনি অ্যারেঞ্জমেন্ট করেছেন তিনি নিশ্চয়ই কোনো বুদ্ধিমান ও সমর্থবান। সেই অদৃশ্য শক্তির নাম ঈশ্বর, আল্লাহ, গড বা জহবা। এক এক সংস্কৃতিতে তাঁর নাম এক এক রকম।

ঈশ্বর শব্দের অর্থ, যিনি অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন বা যিনি ইষ্ট সাধন করেন। ইলাহ্ বা আল্লাহ শব্দের অর্থ হলো ইবাদত যোগ্য কোনো এক সত্ত্বা। জহবা শব্দের অর্থ হলো — তিনি যিনি আছেন। অর্থাৎ কেউ বা কিছু একটা অস্তিত্ব, যার জন্য এতো আনন্দ আয়জন।

বিজ্ঞান মনস্কতার ঈশ্বর

বিজ্ঞান মনোস্ক মানুষ বলেন, “ঈশ্বর মানুষের কল্পনা। ওপরে কেউ নেই। কারণ, দূরবীন দিয়ে দেখলে মহাশূন্য ছাড়া কিচ্ছুই দেখা যায় না। আল্লাহ্, গড, ভগবান এসব মানুষের অতিপ্রাকৃতিক কপোল কল্পনার ফল।”

বিজ্ঞান প্রমাণ চায়। বিজ্ঞান ঈশ্বরকে এমন ভাবে দেখতে চায়, যা সে সবাইকে দেখাতে পারে। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে হাতে তুলে, ওজন মেপে, আঙুলে টিপে টিপে, নাকে গন্ধ শুকে তবেই ঈশ্বরে অস্তিত্ব জানতে চায়। শুধু তাই নয়, ঈশ্বরকে অভিজ্ঞতামূলক প্রমাণ হিসেবে সে কিছু মেথড চায়, যাতে যে কোনো ব্যক্তি সেই অভিজ্ঞতা লাভ করবে। (সৃষ্টির-রহস্য)

রিলিজিয়ন গুলোর কোনো ঈশ্বর নেই

রিলিজিয়ন গুলো বলে, এই জগতের স্রষ্টাকে চোখে দেখা যায় না। তাঁকে স্পর্শ করা যায় না, তিনি সবার সামনে প্রকট হতে পারেন না। এর পর সব থেকে সাংঘাতিক কথাটি হলো, “যে বা যারা ঈশ্বরের মূর্তি তৈরি করে পূজা করে। তারা ঈশ্বরের বদলে অন্য কিছুর (শয়তানের) উপাসনা করে। এখানেই রিলিজিয়ন গুলোর ঈশ্বর বিরোধি শয়তানের জন্ম

তারা নিজ নিজ ধর্মমত বাদে সমগ্র বিশ্বের মতবাদকে একাধারে শয়তানের প্ররোচনা বলে আখ্যা দেন। এখানে ঈশ্বরের কাজে শয়তানের হস্তক্ষেপ। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই শয়তান বা ঈশ্বর উভয়েরই কোনো অস্তিত্বকে প্রমাণ করার।

 

Himadri

স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী, সমাজকর্মী, সনাতনী হিন্দু জাগরণ মঞ্চের একজন লেখক এবং Blogger.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *