Wednesday, July 8, 2026 Trending Topics Newsletter

.

বিজ্ঞান ও কুসংস্কার

ভক্ষ্য ও অভক্ষ্য বিচার: মনুস্মৃতির আহার্য সংহিতা

Himadri Roy Sarkar March 17, 2026 0

শুদ্ধ আহার শুদ্ধ চিত্তের আধার। মনুস্মৃতির পঞ্চম অধ্যায়ে মানবের শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষের জন্য খাদ্যদ্রব্যের এক সুশৃঙ্খল বিভাজন করা হয়েছে। শরীর ধারণের জন্য যেমন ভোজন প্রয়োজন, তেমনি পারমার্থিক উন্নতির জন্য অভক্ষ্য বর্জন অনিবার্য। The HinduHum Network -এর পাঠকদের জন্য ভক্ষ্য ও অভক্ষ্য দ্রব্যের শাস্ত্রীয় সিদ্ধান্ত এখানে উপস্থাপন করা হলো।

​অভক্ষ্য শাক-সবজি ও উদ্ভিদ

​প্রকৃতিদত্ত সকল উদ্ভিদ ভক্ষণযোগ্য নয়। কিছু দ্রব্য স্বভাবগত কারণেই তামসিক এবং চিত্তের মালিন্য ঘটায়।

​লশুনং গৃঞ্জনং চৈব পলায়ুং কবকানি চ। অভক্ষ্যাণি দ্বিজাতীনামমেধ্যপ্রভবানি চ।। (মনুস্মৃতি ৫/৫)

  • লশুন (রসুন): এটি উগ্র ও কামোদ্দীপক।
  • গৃঞ্জন (গাজর): শাস্ত্রীয় মতে নির্দিষ্ট প্রকারের গাজর নিষিদ্ধ।
  • পলায়ু (পেঁয়াজ): এটি বুদ্ধিকে তামসিক করে।
  • কবক (ছত্রাক বা মাশরুম): অপবিত্র স্থানে জন্মানোর কারণে এটি অভক্ষ্য।

​এছাড়াও বৃক্ষের নির্যাস (আঠা), যা কাটার পর নির্গত হয়, তা ভক্ষণ করা নিষিদ্ধ। তবে যজ্ঞীয় উদ্দেশ্যে বা ঔষধি হিসেবে এর ব্যতিক্রম হতে পারে।

​অভক্ষ্য পানীয় ও দুগ্ধ

​দুগ্ধ অত্যন্ত পবিত্র আহার হলেও নির্দিষ্ট সময়ে বা নির্দিষ্ট পশুর দুগ্ধ বর্জনীয়।​

অনির্বৎসায়া বৎসা ধেনোঃ ক্ষীরং বিবর্জয়েৎ।

ঔষ্ট্রং চৈকশফং চৈব মার্জারং যচ্চ সন্ধিনী।। (মনুস্মৃতি ৫/৮-৯)

  • নবপ্রসূতা গাভী: সন্তান প্রসবের পর প্রথম দশ দিন গাভীর দুগ্ধ পান করা নিষিদ্ধ।
  • উট ও একশফ প্রাণী: উষ্ট্রী বা ঘোড়ার ন্যায় এক খুরবিশিষ্ট প্রাণীর দুগ্ধ পান করা অনুচিত।
  • মেষী ও সন্ধিনী: ভেড়ার দুধ এবং যে গাভী পরপুরুষ (ষাঁড়)-এর জন্য ব্যাকুল থাকে, তার দুগ্ধ বর্জনীয়।

​মাংস ভক্ষণ: বিধি ও নিষেধের সূক্ষ্মতা

​মাংস ভক্ষণ বিষয়ে মনুস্মৃতি এক বিশেষ ভারসাম্য রক্ষা করে। কেবল রসনা তৃপ্তির জন্য প্রাণিহত্যা মহাপাপ, কিন্তু শাস্ত্রীয় বিধানে এর কিছু ব্যতিক্রম আছে।

যজ্ঞার্থং পশবঃ সৃষ্টাঃ স্বয়মেব স্বয়ম্ভুবা।

যজ্ঞোঽস্য ভূত্যৈ সর্বস্য তস্মাদ্ যজ্ঞে বধোঽবধঃ।। (মনুস্মৃতি ৫/৩৯)

​স্বয়ং ব্রহ্মা যজ্ঞের নিমিত্ত পশু সৃষ্টি করেছেন। যজ্ঞ যেহেতু জগতের কল্যাণের জন্য করা হয়, তাই যজ্ঞীয় কার্যে পশুবধকে সাধারণ ‘বধ’ বা হিংসা হিসেবে গণ্য করা হয় না।

কারা মাংস ভক্ষণ করতে পারে না?

ব্রাহ্মণ, যারা বেদ পাঠ করেন এবং যারা মোক্ষকামী, তাদের জন্য মাংস ভক্ষণ সর্বদা নিষিদ্ধ। কিন্তু যে ব্যক্তি যজ্ঞে বা শ্রাদ্ধে আমন্ত্রিত হয়ে মাংস ভক্ষণ করতে অস্বীকার করেন, তিনি পরজন্মে সেই পশুর লোম সংখ্যার সমান বছর নরকবাস করেন। (মনুস্মৃতি ৫/৩৫)। অর্থাৎ, শাস্ত্রীয় বিধান আনুসারে মাংস করাই যায়। কারণ তখন হিংস বা লোভ মুখ্য থাকে না। 

ভক্ষ্য মাংসের তালিকা

​সকল প্রাণীর মাংস ভক্ষণযোগ্য নয়। শাস্ত্র নির্দিষ্ট কিছু প্রাণীকে ভক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে:

  • শশক (খরগোশ), কচ্ছপ, গোধা (গুইসাপ), সজারু এবং গণ্ডার: এই পাঁচ প্রকার পঞ্চনখ প্রাণী ভক্ষণযোগ্য (মনুস্মৃতি ৫/১৮)।
  • মৎস্য: রাজীব, সিংহতুণ্ডক, সশল্ক (আঁশযুক্ত) এবং পাঠীন মাছ যজ্ঞীয় কাজে বা বিশেষ তিথিতে ভক্ষণ করা যেতে পারে।

আহারের পবিত্রতা ও মানসিক প্রভাব

খাদ্য কেবল জিহ্বার স্বাদ নয়, তা মানুষের স্বভাব গঠন করে। অপবিত্র বস্তু ভক্ষণ করলে ব্রাহ্মণ্য তেজ নষ্ট হয়।

ব্রহ্মচারী তু যোঽশ্নীয়ান্মধুমাংসং কদাচন। 

প্রাজাপত্যং চরেৎ কৃচ্ছ্রং শৌচার্থং চ দ্বিজোত্তমঃ।। (মনুস্মৃতি ৫/১৯)

​যদি কোনো দ্বিজ (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য) ভুলবশত নিষিদ্ধ মাংস বা মদ্য পান করেন, তবে তাকে ‘প্রাজাপত্য’ ব্রত পালন করে পুনরায় পবিত্র হতে হয়।

শ্রাদ্ধ ও যজ্ঞে মাংস প্রত্যাখ্যানের পরিণাম:

শাস্ত্রীয় বিধানে নির্দিষ্ট পবিত্র কর্মে যখন মাংস নিবেদন করা হয়, তখন তা প্রত্যাখ্যান করাকে শৃঙ্খলার পরিপন্থী মনে করা হয়। এই বিষয়ে মনুস্মৃতির কঠোর বিধানটি নিম্নরূপ:

​নিযুক্তস্তু যথান্যায়ং যো মাংসং নাতি মানবঃ। 

 স প্রেত্য পশুতাং যাতি সংভবান্ একবিংশতিম্।।

(মনুস্মৃতি ৫/৩৫)

​অর্থাৎ, বিধি অনুসারে শ্রাদ্ধ বা মধুপর্কে নিযুক্ত হয়ে যে ব্যক্তি মাংস ভক্ষণ করে না, সে পরলোকে একুশ বার পশুরূপে জন্মগ্রহণ করে।

দ্রষ্টব্য: এই বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো শাস্ত্রীয় অনুশাসন ও গুরুর আজ্ঞা পালন নিশ্চিত করা। তবে সাধারণ অবস্থায় মাংস ত্যাগকেই ‘মহৎ ফল’ বলা হয়েছে।

ভোজন বিধি ও শাস্ত্রীয় শৃঙ্খলা: মনুস্মৃতির নির্দেশিকা।

আহার কেবল ক্ষুধা নিবৃত্তির উপায় নয়, বরং এটি একটি যজ্ঞস্বরূপ। মনুস্মৃতিতে ভোজনের নিয়মাবলী, স্থান এবং মানসিক অবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমার পাঠকদের জন্য এই গূঢ় বিধানগুলো শ্লোকসহ উপস্থাপিত হলো।

ভোজনের শিষ্টাচার ও নিয়মাবলী

​কখন, কোথায় এবং কীভাবে ভোজন করতে হবে, সে সম্পর্কে মনুস্মৃতিতে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ভোজনের দিক ও স্থান:

ভোজনের সময় অভিমুখ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শরীরের শক্তি ও আয়ুর ওপর প্রভাব ফেলে।

​আয়ুষ্যং প্রাঙ্মুখো ভুঙক্তে যশস্যং দক্ষিণামুখঃ।

শ্রিয়ং প্রত্যঙ্মুখো ভুঙক্তে ঋতং ভুঙক্তে উদঙ্মুখঃ।।

(মনুস্মৃতি ২/৫২)

  • পূর্বমুখী: দীর্ঘায়ু লাভ হয়।
  • দক্ষিণমুখী: যশ বা খ্যাতি বৃদ্ধি পায়।
  • পশ্চিমমুখী: সমৃদ্ধি বা শ্রী লাভ হয়।
  • উত্তরমুখী: সত্য ও ন্যায় নিষ্ঠা অর্জিত হয়।

ভোজনের পদ্ধতি ও শৌচ:

ভোজনের পূর্বে ও পরে হাত, পা এবং মুখ প্রক্ষালন (ধোয়া) করা আবশ্যিক। পঞ্চপদ (দুই হাত, দুই পা এবং মুখ) আর্দ্র করে ভোজন করাকে প্রশান্তিদায়ক বলা হয়েছে।

​পূজয়েদশনং নিত্যমদ্যান্চ্চৈতদকুৎসয়ন্।

 দৃষ্ট্বা হৃষ্যেৎ প্রসীদেচ্চ প্রনন্দেচ্চ সর্বশঃ।। (মনুস্মৃতি ২/৫৪)

​অর্থাৎ, অন্নকে সর্বদা পূজা বা সম্মান করতে হবে এবং নিন্দা না করে ভক্ষণ করতে হবে। অন্ন দেখে আনন্দিত ও প্রসন্ন হওয়া উচিত। অন্নকে অবজ্ঞা করলে বল ও তেজ নষ্ট হয়।

ভোজনের সময় ও পরিমাণ

​অত্যধিক ভোজন স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে বাধা।

​অনারোগ্যমনায়ুষ্যমস্বর্গ্যং চাতিভোজনম্।

অপুণ্যং লোকবিদ্বিষ্টং তস্মাত্তৎ পরিবর্জয়েৎ।। (মনুস্মৃতি ২/৫৭)

​অত্যধিক ভোজন আরোগ্যের পরিপন্থী, আয়ু নাশক, স্বর্গের পথে বাধা এবং পুণ্য বিনাশকারী। সমাজেও অতিভোজী ব্যক্তি ঘৃণার পাত্র হয়, তাই এটি বর্জনীয়।

 এমন বিধানের কারণ কী?

​মনুস্মৃতির এই খাদ্যাভ্যাস ও ভোজন বিধির পেছনে গভীর বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক কারণ বিদ্যমান:

  • মানসিক শুদ্ধি: ‘আহারশুদ্ধৌ সত্ত্বশুদ্ধিঃ’—অর্থাৎ আহার শুদ্ধ হলে চিত্ত শুদ্ধ হয়। সঠিক দিক ও অবস্থায় ভোজন করলে মনে সাত্ত্বিক ভাবের উদয় হয়।
  • শারীরিক সুস্থতা: হাত-পা ধুয়ে খাওয়ার নিয়মটি জীবাণু সংক্রমণ রোধ করে। আবার অতিভোজন বর্জনের নির্দেশ হজম শক্তি রক্ষা ও দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করার জন্য।
  • সামাজিক শৃঙ্খলা: শ্রাদ্ধ বা যজ্ঞের বিধানগুলো সামাজিক একতা এবং পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের একটি কাঠামো তৈরি করে। আজ্ঞা পালনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত অহংবোধ বিনাশ করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।
  • কৃতজ্ঞতা বোধ: অন্নকে ‘পূজা’ করার অর্থ হলো প্রকৃতির সেই দানকে স্বীকার করা যা আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। কৃতজ্ঞ চিত্তে আহার করলে তা শরীরে অমৃতের ন্যায় কাজ করে।

মাংসভক্ষণকারীকে ঘৃণা: মনুস্মৃতির মানবিক ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি কি?

সনাতন শাস্ত্র এবং মনুস্মৃতির বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির খাদ্যভ্যাস দেখে তাকে ঘৃণা করা বা অবজ্ঞা করা ধর্মের পথ নয়। যদিও মাংস ত্যাগের মহিমা অপরিসীম, তবুও মাংসভক্ষণকারী ব্যক্তির প্রতি আচরণের ক্ষেত্রে শাস্ত্র অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ এবং করুণাময়। হিন্দু ধর্ম শাস্ত্র যে নীতি গ্রহণ করেছে সেটি হলো:

ঘৃণা বর্জন ও দয়ার নীতি

​মনুস্মৃতিতে প্রাণিহিংসা বর্জনের কথা বলা হলেও, কোনো মানুষকে ঘৃণা করার উপদেশ দেওয়া হয়নি। বরং শাস্ত্র মতে, সকল জীবের মধ্যেই পরমাত্মার অংশ বিদ্যমান। 

​সর্বভূতেষু চাত্মানং সর্বভূতানি চাত্মনি।

সমং পশ্যন্নাত্মযাজী স্বরাজ্যমধিগচ্ছতি।। (মনুস্মৃতি ১২/৯১)

​অর্থাৎ, যিনি সমস্ত ভূতে (প্রাণীতে) নিজেকে দেখেন এবং নিজের মধ্যে সমস্ত প্রাণীকে দেখেন, তিনিই সমদর্শী এবং প্রকৃত জ্ঞানী। এই ‘সমদর্শন’ বা সমভাবের অর্থ হলো কারো প্রতি বিদ্বেষ পোষণ না করা।

মাংস মৎস ভক্ষণকারী ব্যক্তি যদি অজ্ঞানবশত বা প্রবৃত্তিগত কারণে মাংস গ্রহণ করেন, তবে তাকে ঘৃণা না করে সঠিক পথের দিশা দেখানোই আর্য্য আচরণ।

কেন ঘৃণা অনুচিত?

​মনুস্মৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, আহারের প্রবৃত্তি মানুষের স্বাভাবিক স্বভাবের অংশ। স্বভাবগত ত্রুটির জন্য কাউকে ঘৃণা করা অধর্ম।

​ন মাংসভক্ষণে দোষো ন মদ্যে ন চ মৈথুনে। 

প্রবৃত্তিরেষাভূতানাং নিবৃত্তিস্তু মহাফলা।। (মনুস্মৃতি ৫/৫৬)

​এখানে ‘দোষ নেই’ বলার অর্থ হলো—এটি একটি স্বাভাবিক মানবিক দুর্বলতা বা প্রবৃত্তি। কোনো ব্যক্তি যদি তার প্রবৃত্তি জয় করতে না পারেন, তবে তিনি করুণার পাত্র, ঘৃণার নয়।

 নিবৃত্তি বা ত্যাগ হলো শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পথ, যা কেবল অভ্যাসের মাধ্যমেই সম্ভব। ঘৃণা মানুষের মনে তমো গুণ বৃদ্ধি করে, যা আধ্যাত্মিক পতনের কারণ।

সংসর্গ ও আচরণের বিধান

​ঘৃণা না করলেও, নিজের আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য সাধক বা দ্বিজদের কিছু বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। একে ‘ঘৃণা’ নয়, বরং ‘বিবেচনা’ বলা হয়।

  • সংসর্গ পরিহার: যদি কেউ অত্যন্ত অভক্ষ্য ভক্ষণে অভ্যস্ত হয়, তবে নিজের চিত্তশুদ্ধি রক্ষার জন্য তার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে আহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এটি ঘৃণাবশত নয়, বরং নিজের ‘শৌচ’ বা পবিত্রতা বজায় রাখার জন্য।
  • উপদেশ ও সংস্কার: শাস্ত্র বলে, যারা ভুল পথে আছে তাদের প্রতি ঘৃণা নয়, বরং সৎ উপদেশ ও সংস্কারের মাধ্যমে তাদের উন্নীত করা উচিত।

পাপ ও পাপীর পার্থক্য

​মনুস্মৃতি পাপকে ঘৃণা করতে শেখায়, পাপীকে নয়। মাংস ভক্ষণকে একটি নিম্নতর কর্ম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে কারণ এতে হিংসা জড়িত।

যস্মাৎ প্রাণিবধাদৃতে মাংসং নোপলভ্যতে। 

তস্মাৎ প্রাণিবধং ত্যক্ত্বা মাংসাশী ন ভবেন্নরঃ।। (মনুস্মৃতি ৫/৪৮)

​অর্থাৎ, প্রাণিহত্যা ছাড়া মাংস মেলে না, তাই একে ত্যাগ করা উচিত। কিন্তু যে ব্যক্তি এটি ত্যাগ করতে পারছেন না, তাকে সমাজচ্যুত করা বা ঘৃণা করা ধর্মের উদ্দেশ্য নয়। বরং তাকে অহিংসার গুরুত্ব বুঝিয়ে বর্জন করানোর প্রক্রিয়াই হলো যথার্থ ধর্মপালন।

​উপসংহার

​মনুস্মৃতির মূল শিক্ষা হলো সকল প্রাণীর প্রতি দয়া এবং নিজের মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ। মাংসভক্ষণকারী ব্যক্তির প্রতি বিদ্বেষ পোষণ না করে বরং তাকে অহিংসার পথে অনুপ্রাণিত করাই হলো উচ্চতর আদর্শ। The HinduHum Network (hinduhum.net)-এর দর্শনেও এই সহনশীলতা ও প্রজ্ঞার প্রতিফলন থাকা কাম্য।

Written by Himadri Roy Sarkar

This author has not yet filled in any details. Stay tuned for more updates and articles from this contributor.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *