Headlines
Loading...
দাওয়াত, ইসলামিক যুক্তি ও এর মূল্যায়ন।

দাওয়াত, ইসলামিক যুক্তি ও এর মূল্যায়ন।

ইসলামের দাওয়াত শুধু একটি আহ্বান নয়; এটি এক বিশ্বাস থেকে অন্য বিশ্বাসের দিকে যাওয়ার আহ্বান, যা আত্মিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং দার্শনিক ভিত্তিতে গঠিত। ইসলামী দাওয়াত বিশেষত তাওহীদের (একত্ববাদ) ধারণার প্রচার ও প্রসারের উপর প্রতিষ্ঠিত, যেখানে শেষ নবী, আল্লাহর কালাম, আল্লাহর নিরাকার প্রমাণ এবং ইসলামের আনুগত্যের প্রতি জোর দেওয়া হয়।

কিন্তু দাওয়াতের একটি বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে—সমালোচনা, বিশ্লেষণ এবং বিরোধী যুক্তি। এগুলো মূল বিষয় হলেও ঈশ্বর নিন্দা ও অপব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মান্তরন করা হয়।

যখন একটি ধর্মের অনুসারীরা অন্যদের দাওয়াত দেয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে: "এই দাওয়াতের উদ্দেশ্য কি এবং তার তথ্য কতটা যৌক্তিক? এটি কি কেবল বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল, নাকি বাস্তব ও যুক্তির কাঠামোর মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে?"

এই প্রতিবেদনে আমরা ইসলামী দাওয়াতের মূল বিষয়গুলো আলোচনা করব এবং একইসাথে  তাদের যৌক্তিকতা ও গ্রহণযোগ্যতার বিশ্লেষণ করব। যুক্তি, দর্শন ও প্রতিপক্ষের মতামতের আলোকে আমরা খন্ডন করবো।   কারণ এই দাওয়াত কি একতরফা বিশ্বাসের প্রচার, নাকি এর সত্যিই যুক্তিনিষ্ঠ ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে?

ইসলামিক দাওয়াত সাধারণত কুরআন ও হাদিসের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়। যার সঙ্গে হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন ধর্ম মতাম্বলিদের কোনো সম্পর্ক নেই। দুটো একেবারে আলদা সৃষ্টি তত্ত্ব নিয়ে কথা বলে।

মুসলিমরা ইসলামের আল্লাহর একত্ববাদ (অর্থাৎ তাওহীদ) প্রতিষ্ঠার জন্য দাওয়াত করেন। মুফতি, আলেম ও মুমিন মুসলিমরা বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে অমুসলিমদের সাথে আলাপ করেন এবং তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাসগুলোর সাথে ইসলামের তুলনামূলক ব্যাখ্যা দেন। একেই দাওয়াত বলে।

তবে, এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই দাওয়াতের যুক্তি কি বাস্তবসম্মত নাকি শুধু কথার প্যাঁচ? 


১. আল্লাহ নিরাকার, জন্ম-মৃত্যুহীন: ইসলামিক যুক্তির ভিত্তি

ইসলাম বলে যে আল্লাহ চিরঞ্জীব, তাঁর জন্ম-মৃত্যু নেই, তিনি এক ও অদ্বিতীয়। কুরআনে বলা হয়েছে:

"বলুন, তিনি আল্লাহ, অদ্বিতীয়। আল্লাহ সব কিছুর ওপর নির্ভরশীল। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।" (সূরা আল-ইখলাস ১১২:১-৪)

এই আয়াতের ভিত্তিতে মুসলিমরা বলে থাকেন যে, যদি কোনো সৃষ্টিকর্তার জন্ম থাকে বা তিনি রূপ ধারণ করতে পারেন, তবে তিনি প্রকৃত ঈশ্বর হতে পারেন না।

 এই যুক্তি কি বাস্তবসম্মত? নাকি কথার প্যাঁচ?

এই যুক্তিসঙ্গত নয়, কারণ এটি সৃষ্টিকর্তাকে চূড়ান্ত ও পরিপূর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত করে না। —যাঁর ক্ষমতা সীমিত না। কেবল মাত্র তিনিই সৃষ্টির নিয়মের ঊর্ধ্বে।

তাই, এটি শুধুমাত্র ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে সত্য। অন্যান্য ধর্ম বিশ্বাস ও অনুসারীদের জন্য এটি চূড়ান্ত সত্য নয়।

যেমন তাদেরই পূর্ব পুরুষের ধর্ম,  খ্রীষ্ট ধর্মে বাইবেল বলছে ইয়াহিয়া তাঁর নিজের স্বরূপে আদমকে বানিয়েছেন। অর্থাৎ ঈশ্বরের রূপ আছে। মুসা ও অনেকেই ঈশ্বরের দর্শন পেয়েছিলেন। পাহাড়ের ওপরে নীল রত্নের ওপর দাড়িয়ে থাকতে দেখেছে। সেদিন ঈশ্বরের কথা সবাই শুনতে পেয়েছিল। কিন্তু তাঁর অবয়ব বানাতে বারণ ছিলো। তাই কোনো প্রতিমা নেই।

আবার হিন্দু ধর্মের ঈশ্বরের সংজ্ঞা কিছুটা ভিন্ন। 

২. হিন্দু প্রতিতর্ক: ঈশ্বরের ইচ্ছার শক্তি

হিন্দু ধর্মে ঈশ্বরের সংজ্ঞা অনুযায়ী  ব্রহ্ম (পরম সত্য) নিরাকার, কিন্তু তিনি ইচ্ছা করলে সাকার (রূপধারণ) হতে পারেন। তাঁকে বলা হয় অপরব্রহ্ম। এই অপরব্রহ্ম বিভিন্ন দেবী দেবতা  এবং এই জগত। কিন্তু মূর্তি পূজা করা যাবে না, এমনটা কোথাও নেই।

তিনি ইচ্ছা করলে তাঁর যোগ মায়াকে আশ্রয় করে জন্ম নিতে পারেন, তিনি ইচ্ছা করলেই ওই  দেহ ত্যাগ করতে পারেন। কারণ, দেহের জন্ম বা মৃত্যু হয়। 

 গীতায় বলা হয়েছে:

"যখনই ধর্মের অধঃপতন ঘটে ও অধর্মের বিস্তার হয়, তখন আমি নিজেকে প্রকাশ করি।" (শ্রীমদ্ভগবদগীতা ৪.৭)

   এই যুক্তির মানে কি?

  • ঈশ্বর সবকিছু পারেন, তাই তিনি জন্ম নিতে পারেন, রূপ নিতে পারেন। এর মানে এই নয় যে, তিনি সাধারণ ভাবে জন্ম নেন না; বরং তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে তা করেন।

👉 তাহলে মুসলিমদের যুক্তির জবাব কি এখানেও দেওয়া হলো?

  • হ্যাঁ, হিন্দু দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ উত্তর। তবে ইসলামিক যুক্তিতে বলা হয়: "যদি ঈশ্বর পরিবর্তনশীল হন, তাহলে তিনি সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য ধারণ করেন।" ইসলামে আল্লাহ অপরিবর্তনীয়, কিন্তু হিন্দু ধর্মে ঈশ্বর ইচ্ছা করলে রূপ ও রূপহীন উভয় হতে পারেন।

৩. কথার প্যাঁচ নাকি বাস্তব যুক্তি?

মুসলিমদের যুক্তি:

  • আল্লাহ জন্ম-মৃত্যুহীন এবং রূপান্তরিত হন না, কারণ পরিবর্তনশীল সত্তা পরম সত্তা হতে পারে না। এটি তাদের যুক্তি এবং স্থিতিশীল বিশ্বাস, যা অলৌকিকতা বা রূপান্তরিত হওয়া ছাড়া নির্দিষ্টভাবে ঈশ্বরকে সংজ্ঞায়িত করে। 

হিন্দুদের প্রতিতর্ক:

ঈশ্বর নিজের ক্ষমতায় সীমাবদ্ধ নন। তিনি ইচ্ছা করলে রূপ নিতে পারেন বা না-ও নিতে পারেন। 

এই তর্ক ঈশ্বরের সর্বশক্তিমান হবার পক্ষকে জোরালো করে, তবে কি এটি ঈশ্বরের পরিবর্তনশীলতার প্রশ্ন তোলে? না। এর উত্তর বেদের সারাংশ বৃহদারণ্যক উপনিষদ আমাদের বলছে।  বৃহদারণ্যক উপনিষদ ৫.১ বলছে:—

পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং পূর্ণাত্ পূর্ণমুদচ্যতে।
পূর্ণস্য পূর্ণমাদায় পূর্ণমেবাবশিষ্যতে॥"

বাংলা অনুবাদ:

"ওটি (ব্রহ্ম) পূর্ণ, এটিও (প্রকৃতি) পূর্ণ। পূর্ণ থেকে পূর্ণ উদ্ভূত হয়। যদি পূর্ণ থেকে পূর্ণকে নিয়ে নেওয়া হয়, তবুও পূর্ণই অবশিষ্ট থাকে।"

ঈশ্বর বা আল্লাহ যদি স্বয়ং সম্পূর্ণ হন তবে তাঁর মধ্যে অভাব বা অপূর্ণতা থাকার কথা নয়। তিনি যদি এমন কিছু সৃষ্টি করে থাকেন, যা তাঁর সৃষ্ট হয়েও ভিন্ন কিছু নির্দেশ করে, তবে প্রশ্ন হলো সেই ভিন্ন বস্তু কি ভাবে এলো? তাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলছেন:

"ব্রহ্মাঅর্পণ ব্রহ্মহবি ব্রহ্মগ্নৌ ব্রহ্মণা হুতম।
ব্রহ্মৈব তেন গন্তব্যং ব্রহ্মকর্ম সমাধিনা॥"
—(ভগবদ্গীতা ৪.২৪ (Bhagavad Gita 4.24)

🔹 বাংলা অনুবাদ 

"(যজ্ঞের) অর্পণ ব্রহ্ম, যজ্ঞের হবি ব্রহ্ম, যজ্ঞের আগুন ব্রহ্ম এবং যজ্ঞে আহুতি প্রদানকারীও ব্রহ্ম। তাই, ব্রহ্মকর্মে সমাহিত ব্যক্তি একমাত্র ব্রহ্মকেই প্রাপ্ত হয়।" 

এর ভিত্তিতে বিচার করলে হিন্দু ধর্মের ঈশ্বরের নিরাকার ধারণা ইসলামের নিরাকার থেকে শুধু আলাদা নয়, বরং সম্পূর্ণ বিপরীত। হিন্দু ধর্মে ঈশ্বরের নিরাকার বোঝাতে তাঁর সমগ্রতাকে বোঝায়। আর ইসলামের আল্লাহ একটি আলাদা সত্ত্বা।

তাহলে, কোনটি সত্য?

এটি নির্ভর করে কোন দৃষ্টিকোণ থেকে আপনি বিষয়টি দেখছেন। মুসলিমদের কাছে, আল্লাহর নিরাকারত্ব ও অপরিবর্তনীয়তা হলো তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের চিহ্ন। হিন্দুদের কাছে, ঈশ্বরের ইচ্ছাশক্তি ও রূপ ধারণের ক্ষমতা হলো তাঁর অসীম অখন্ড শক্তির চিহ্ন।

 অতএব, দুটি ভিন্ন দর্শন। 


৪. ইসলামিক দাওয়াতের লক্ষ্য কি?

ইসলামের দাওয়াতের লক্ষ্য হলো তাওহীদের ধারণা প্রচার করা—যেখানে ঈশ্বর এক, অদ্বিতীয়, অপরিবর্তনীয়।

অন্য ধর্মের লোকেরা যদি তাঁদের বিশ্বাস অনুযায়ী ব্যাখ্যা দিতে পারেন, তবে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে সেটি গ্রহণযোগ্য নয়। সেই ধারনা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম হয়ে যায়। সেই ভাবেই হিন্দু ধর্মের পক্ষে ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্ম নয়, এটি একটি অপূর্ণ ঈশ্বরের অপূর্ণ ধর্ম যা কিছু কিছু মানুষদের জন্য সৃষ্ট।

📌 তাহলে এই তর্কের উত্তর কি?

এই বিতর্ক কোনো পক্ষকে ভুল প্রমাণ করতে পারে না, বরং এটি দর্শনের ভিন্নতা তুলে ধরে। ইসলাম একটি নীতি নির্ভর জীবন ব্যবস্থা এবং হিন্দু একটি দার্শনিক জীবন ব্যবস্থা। আমরা (হিন্দুরা) বিশ্বাস করি, নিজ নিজ মতে নিজ নিজ পথে ঈশ্বর জ্ঞানে জীব সেবায় নিজেকে পরিচালিত করাই ধর্ম। 


তর্কের মূল বিচার

যদি কোনো মুসলিম দাওয়াত দেয় এবং বলে ঈশ্বর এক এবং অদ্বিতীয়। ঈশ্বরের কোনো মূর্তি বা প্রতিমা নেই। প্রথমে তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তিনি যা বলছে তাতে কোনো আপত্তি বা প্রতিক্রিয়া জানাবেন না। তাঁর বিশ্বাসকে সম্মান করুন। অক্রোধ এবং সহনশীলতা ধর্মের দশ লক্ষণের মধ্যে অন্যতম। এবার, সেই দাওয়াতের ভিত্তিতে তাকে এই প্রশ্ন করা যেতে পারে:

"আপনি কী এমন এক ঈশ্বরকে মানবেন, যিনি চিরন্তন ও অপরিবর্তনীয়? নাকি এমন ঈশ্বরকে মানবেন, যিনি চিরন্তন এবং ইচ্ছা করলে পরিবর্তিত হতে পারেন?"

তাঁর বিশ্বাস অনুযায়ী সে জবাব দেবেন । আমি সেই ঈশ্বরকেই মানবো, যিনি চিরন্তন ও অপরিবর্তনীয়। যার জন্ম, মৃত্যু, আত্মীয় পরিজন নেই। 

এবার তাঁকে প্রশ্ন করুণ —"যিনি ইচ্ছা করলে পরিবর্তিত হতে পারেন না, তিনি কি সর্ব শক্তিমান? নাকি জিনি ইচ্ছা করলে পরিবর্তিত হতে পারেন তিনি।"

হয় সে এর জবাবে  পারবে। নতুবা অন্য কিছু বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। তাঁকে আবার বলুন। 

 আপনার বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহ নিরাকার অর্থাৎ তিনি কোনো ভাবেই সাকার হতে পারেন না।  এই একই কথা নবী ইশা, নবী মুসা, ইব্রাহিম সকলেই বলতেন। কিন্তু তারা সকলেই বিভিন্ন কারামত (বা অতি আশ্চর্য প্রমাণ) দেখিয়েছেন। আপনি কি এই মুহূর্তে আমর ঈশ্বরের তুলনা না দিয়ে এমন কিছু কারামত দেখাতে পারবেন যা আমার ওই পাথরের সাকার মূর্তি পারে না।

তাঁর উত্তর হতে পারে। আপনি কি দেখাতে পারবেন? অথবা সে নিচের উত্তর গুলোর মধ্যে একটি জবাব দেবে।

📌 সম্ভাব্য প্রত্যুত্তরসমূহ:

  1. সাকার মূর্তি মানুষের সৃষ্টি, কিন্তু আল্লাহ মানুষসহ সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন।
  2. পাথরের মূর্তি নিজে কোনো কিছু করতে পারে না, কিন্তু আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাশালী ও নিয়ন্ত্রক।
  3. আল্লাহ কারো সাহায্য ছাড়া কিছু করতে পারেন, কিন্তু একটি মূর্তি নিজে চলতে, কথা বলতে বা কিছু পরিবর্তন করতে পারে না।
  4. আল্লাহ সময়, স্থান ও পদার্থের সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে, কিন্তু একটি মূর্তি স্থান ও উপাদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
  5. আল্লাহ ইচ্ছা করলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব সৃষ্টি ও বিনাশ করতে পারেন, কিন্তু একটি মূর্তি নিজের অস্তিত্বও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।
  6. আল্লাহ কোনো নির্দিষ্ট রূপ বা আকৃতির অধীন নন, কিন্তু একটি মূর্তি নির্দিষ্ট আকৃতি ও সীমাবদ্ধ রূপে আবদ্ধ।
  7. আল্লাহ সৃষ্টির মধ্যে সর্বব্যাপী, কিন্তু একটি মূর্তি শুধু যেখানে রাখা হয়, সেখানেই সীমাবদ্ধ।
  8. আল্লাহ প্রার্থনার উত্তর দিতে পারেন, কিন্তু একটি মূর্তি নিজে কিছু শুনতে বা জবাব দিতে পারে না।
  9. আল্লাহ অদৃশ্য থেকেও কার্যকর, কিন্তু একটি মূর্তি দৃশ্যমান হয়েও অচেতন ও অক্ষম।
  10. আল্লাহ অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জানেন, কিন্তু একটি মূর্তি কোনো কিছুর জ্ঞান রাখে না।

এই উত্তরগুলো ইসলামিক ও সাধারণ দার্শনিক যুক্তির ভিত্তিতে গঠিত, যা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও সাকার মূর্তির সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা। এর বাইরে তাদের জ্ঞানের কিছুই নেই। 

অথবা সে যুদি একটু যুক্তিবাদী হয় তবে তাঁর উত্তর হতে পারে "আপনি অলৌকিক কিছু দেখার পরও বিশ্বাস করবেন কি না, তার নিশ্চয়তা নেই, কারণ অতীতেও অনেক মানুষ অলৌকিকতা দেখেও বিশ্বাস করেনি।" 

তাঁকে বলুন, "ঘোড়ার ডিম ডিম আছে, এর কি কোনো নিশ্চয়তা আছে? যদি কেই হাঁসের ডিমকে  ঘোড়ার ডিম বলে ঘোড়ার ডিমের দুটি সিং আছে বলে বিশ্বাস করাতে চায়। তবে তাঁকে ঘোড়ার ডিম দেখাতে হবে। 


এরপর আপনার উত্তর হবে, "আমার ঈশ্বর আমাকে মূর্তি তৈরি করার জ্ঞান বুদ্ধি ও প্রযুক্তি দিয়েছে, শুধু আমাকে নয়। প্রতিটি মানুষের মধ্যেই এর কোনো না কোনো গুণ তিনিই দিয়েছেন।  আপনি একটি মাটি পাথর যা কিছু এনে দিন, আমি আমার ঈশ্বরের দেওয়া সামর্থে তৈরী করে দেখাবো।" আপনি এমন কিছু দেখান যা আপনার আল্লাহ আপনাকে দিয়েছেন যা আমি পারি না।

সে হার মানবে না। হয় তো সে এবার গালি দিতে শুরু করবে বা শিব, কৃষ্ণ, লিঙ্গ পূজা, পুরাণ ইত্যাদি থেকে বিভিন্ন ধরনের নোংরা নোংরা কথা বলবে। আপনি শুনুন এবং তাঁকে বলুন:

ঈশ্বরের ক্ষমতায় আমার কোনো সন্দেহ নেই। আমি যখন আপনাকে বললাম "কিছু দেখান যা আপনার আল্লাহ আপনাকে দিয়েছেন যা আমি বা আমার ঈশ্বরের পারি না।" আপনি আমার ধর্মের নিন্দা করলেন। অর্থাৎ এগুলোই কি আল্লাহর তরফ থেকে আপনার ওপর কৃপা? নাকি শয়তান আপনাকে বিপথে চালিত করেছে? 

আমাকে দাওয়াত দেওয়ার আগে, নিজের কলসী ভরাট করুন। আমি হিন্দু ধর্মে জন্ম নিয়ে সন্তুষ্ট আছি। আপনি আপনার ধর্ম নিয়ে সন্তুষ্ট, এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ একজন মানুষ তার আত্মিক শান্তি যেখানে খুঁজে পান, সেটিই তার জন্য সত্য।আপনার বিশ্বাসে আপনি স্থির থাকুন, আর আমি শুধু জ্ঞানের আলোচনার মাধ্যমে চিন্তার প্রসার ঘটাতে সাহায্য করতে পারি।

 আলোচনা এবং প্রশ্ন সবসময় চালিয়ে যাওয়া উচিত, কারণ তর্ক নয়, বরং চিন্তাভাবনার বিনিময়ই প্রকৃত উপলব্ধি নিয়ে আসে। তবে সব সময় শ্রদ্ধা আশা করি। 

আপনার মতামত ও চিন্তার প্রতি শ্রদ্ধা রইল।

উপসংহার:

ইসলামী দাওয়াত কেবলই একতরফা বিশ্বাসের প্রচার মাত্র। যাকে সংস্কৃত ভাষায় বিতন্ডা বলা হয়।গৌতমের ন্যায় সূত্র (Nyaya Sutras 1.2.3) অনুসারে, "তর্কহীন প্রতিতর্ক" অর্থাৎ, যেখানে কেউ নিজে কোনো প্রমাণ দিতে পারে না, বরং কেবলমাত্র অন্যের যুক্তিকে খণ্ডনের চেষ্টা করে। বিতণ্ডা হল এমন একটি বিতর্ক যেখানে বিতারকের নিজস্ব কোনো স্থিতিশীল মতামত থাকে না, শুধু প্রতিপক্ষের যুক্তিকে দুর্বল করাই তার উদ্দেশ্য। 

তাই, কেউ যদি শুধু পাল্টা প্রশ্ন করতে থাকে এবং কোনো উত্তর না দেয়, তবে সে "ন্যায় যুক্তিবাদে অযোগ্য" বলে বিবেচিত হয়। 

৭টি মন্তব্য

  1. মোঃ সাইফুল আলম২৪ মার্চ, ২০২৫ এ ৫:৫৪ PM

    যিনি ইচ্ছা করলে পরিবর্তিত হতে পারেন না, তিনি কি সর্ব শক্তিমান? নাকি জিনি ইচ্ছা করলে পরিবর্তিত হতে পারেন তিনি।"
    অবশ্যই আল্লাহ সব পারেন তবে তিনি তা করেন না। কারণ এতে করে তাঁর নিজের অদ্বিতীয় সত্তা খণ্ডিত হবে। আপনাদের ঈশ্বর মানব নির্মিত। তারা হাঁটতে পারে না, কথা বলতে পারে না। কিভাবে আপনি আপনার ঈশ্বরকে বানাতে পারে, যেখানি তিনি আপনার সৃষ্টি কর্তা। আল্লাহ একমত মাবুদ।

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. @ মোঃ সাইফুল আলম! আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
      আমি আপনার মতামতের সম্মান করি। কিন্তু আমি আপনার মত সমর্থন করি না বা বাধ্য নই। আপনার এই সব প্রশ্নের জবাব আগেই দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য Blogpost গুলো পড়ুন।

      মুছুন
    2. মোঃ সাইফুল আলম২৪ মার্চ, ২০২৫ এ ৫:৫৯ PM

      আল্লাহর সব থেকে উত্তম ও মনোনীত ধর্ম হলো ইসলাম

      মুছুন
    3. মোঃ সাইফুল আলম, আমি আল্লাহকে মানি না। তাই তাঁকে বিশ্বাস করা আমার দায় নেই। আপনি আপনার ধর্ম নিয়ে সুখী থাকুন। আমাকে আমার মতো থাকতে দিন।

      মুছুন
    4. মোঃ সাইফুল আলম২৪ মার্চ, ২০২৫ এ ৬:০৩ PM

      আখেরাতে তোমাকে এর জবাব দিতে হবে। আমি তোমাকে দাওয়াত দিয়ে গেলাম।

      মুছুন
  2. খুবই সুন্দর হয়েছে। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ দাদা।

    উত্তরমুছুন

Smart Ads for Smart Businesses Ads by TDads